Posts

বাংলাদেশের ফল

বাংলাদেশ একটি উর্বর ও বৈচিত্র্যময় ফলের দেশ। এখানকার উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের ফল উৎপন্ন হয়, যা বছরের বিভিন্ন সময়ে পাওয়া যায়। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে নানা ধরনের ফল পাওয়া যায়, যা কেবল স্বাদে ও গন্ধে সমৃদ্ধ নয়, পুষ্টিগুণেও ভরপুর। আসুন বাংলাদেশের কিছু জনপ্রিয় ফল নিয়ে আলোচনা করি। আম আম বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ফল এবং এটি ফলের রাজা হিসেবেও পরিচিত। গ্রীষ্মকালে আমের প্রচুর ফলন হয়, বিশেষত দেশের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ও মেহেরপুর অঞ্চলে। বিভিন্ন ধরনের আমের মধ্যে ফজলি, ল্যাংড়া, হিমসাগর, এবং আম্রপালি বিশেষভাবে জনপ্রিয়। এটি খেতে মিষ্টি ও রসালো এবং ভিটামিন এ ও সি-তে ভরপুর। কাঁঠাল কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফলগুলোর মধ্যে একটি। এর বাহ্যিক অংশটি সবুজ ও কাঁটাযুক্ত এবং ভেতরের অংশে হলুদ রঙের মিষ্টি কোষ থাকে। কাঁঠাল খুব সুস্বাদু ও পুষ্টিকর একটি ফল, যা পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। লিচু গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশের প্রতিটি কোণায় লিচুর দেখা মেলে। এর মিষ্টি ও রসালো স্বাদ শিশু থেকে বয়স্ক সকলের মন জয় করে। দিনাজপুর, রাজশাহী, এবং গাজীপুর অ...

সাপ (Snake) একটি রহস্যময় ও ভয়াবহ প্রাণী

 সাপ (Snake) একটি রহস্যময় ও ভয়াবহ প্রাণী, যা প্রাচীনকাল থেকে মানুষের কৌতূহল এবং আতঙ্কের বিষয় হয়ে এসেছে। পৃথিবীর প্রায় সব মহাদেশেই সাপ পাওয়া যায়, এবং তারা বন্যপ্রাণী জগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাপ সম্পর্কে আমাদের জানা এবং না-জানার মধ্যেও অনেক বিস্ময় রয়েছে। আসুন, সাপের বৈশিষ্ট্য, ধরন, পরিবেশ, এবং মানুষের সাথে এর সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি। সাপের বৈশিষ্ট্য: সাপ হলো সরীসৃপ (Reptile) শ্রেণির প্রাণী। এদের দেহ লম্বা এবং সরু, কোনো পা নেই, এবং পুরো দেহটি স্কেল দ্বারা আবৃত থাকে। সাপের শরীরে কশেরুকা থাকে, যা তাদের লম্বা এবং নমনীয় করে তোলে। অনেক ধরনের সাপের বিষাক্ত দাঁত রয়েছে, যা শিকার ধরতে এবং আত্মরক্ষার কাজে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, কিছু সাপ সম্পূর্ণভাবে বিষহীন এবং শুধুমাত্র তাদের শক্ত দেহ এবং চোয়াল ব্যবহার করে শিকার ধরে। সাপের দেহে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ থাকে: চোখ: সাপের চোখের পাতাগুলো একবারে সম্পূর্ণ খোলা থাকে, তাই তারা সবসময় মনে হয় যে জেগে আছে। জিহ্বা: সাপ তাদের জিহ্বা ব্যবহার করে পরিবেশ থেকে গন্ধ শনাক্ত করে। শ্বাসনালী: সাপের নাকের পরিবর্তে মুখের নিচে শ্বাসনা...

ফুল পরিচিতি পর্ব- ১

Image
  কৃষ্ণচূড়া একটি বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ যার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিখ রেজিয়া (Delonix regia) এটি ফাবাসিয়ি (Fabaceae) পরিবারের অন্তর্গত একটি বৃক্ষ যা গুলমোহর নামেও পরিচিত। কৃষ্ণচূড়া বাংলাদেশের অতি পরিচিত একটি ফুল।  চৈত্র-বৈশাখ মাসের প্রচণ্ড গরমে যখন সবাই অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে, তখনই কৃষ্ণচূড়ার ডাল থোকা থোকা লাল ফুলে ভরে ওঠে। ফুলগুলো বড় চারটি পাপড়ি যুক্ত। শুধু গ্রীষ্মেই নয়, বর্ষায়ও কৃষ্ণচূড়ার ডালে ডালে এই ফুল অপূর্ব মোহনীয় রূপে ফোটে। বর্ষার শেষেও এই ফুলের রেশ শেষ হয় না। তবে শীতের হিমেল হাওয়ায় গাছটির পাতাগুলো ঝরে যায়। কৃষ্ণচূড়া মাদাগাস্কারের শুষ্ক পত্রঝরা বৃক্ষের জঙ্গলে পাওয়া যায়। যদিও জঙ্গলে এটি বিলুপ্ত প্রায়, বিভিন্ন বিশ্বের অঞ্চলে এটি জন্মানো সম্ভব হয়েছে। সৌন্দর্য বর্ধক গুণ ছাড়াও, এই গাছ উষ্ণ আবহাওয়ায় ছায়া দিতে বিশেষভাবে উপযুক্ত। কৃষ্ণচূড়া উদ্ভিদ উচ্চতায় কম (সর্বোচ্চ ১২ মিটার) হলেও শাখা-পল্লবে এটি বেশি অঞ্চল ব্যাপি ছড়ায়। শুষ্ক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও, নাতিষীতোষ্ণ অঞ্চলে এটি চিরসবুজ। কৃষ্ণচূড়ার জন্মানোর জন্য উষ্ণ বা প্রায়-উষ্ণ আবহাওয়ার দরকার। এই বৃক্...

বাংলার বাদ্যযন্ত্র – একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

Image
  বাংলার বাদ্যযন্ত্র ও সঙ্গীত বাংলা সংস্কৃতির সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাংলার বাদ্যযন্ত্র চার ভাগে বিভক্ত। (১) ততবাদ্য, (২) শুষিরবাদ্য, (৩) আনদ্ধ বাদ্য, ও (৪) ঘনবাদ্য। যেসব বাদ্যযন্ত্রে তার থেকে ধ্বনি উৎপত্তি হয় তাকে তত্‍বাদ্য বলে। এদের মধ্যে কিছু অঙ্গুলি, মিজরার দ্বারা আঘাতের ফলে ধ্বনির উৎপত্তি করে; যেমন- বীণা, সেতার, তানপুরা, সরোদ ইত্যাদি। অন্যগুলোতে ছড়ি বা ছড় বা ধনু দ্বারা আঘাত বা ঘর্ষণের ফলে ধ্বনির উৎপত্তি হয়; যেমন- বেহালা, সারেঙ্গী, দিলরুবা ইত্যাদি। শুষির বাদ্যযন্ত্র বাঁশ, কাঠ বা অন্য প্রকার ধাতব পদার্থ দিয়ে বানানো হয়। হাওয়া, মুখের ফু দ্বারা ধ্বনির উৎপত্তি করা হয় তাকে শুষির বাদ্যযন্ত্র বলে; যেমন- সানাই, বাঁশি ইত্যাদি। যেসব বাদ্যযন্ত্র চামড়া দ্বারা আচ্ছাদিত এবং চামড়ার উপর আঘাতের ফলে ধ্বনির উৎপত্তি হয়, তাকে আনদ্ধ বাদ্য বলে; যেমন— তবলা-বাঁয়া, মৃদঙ্গ, পাখোয়াজ ইত্যাদি। ঘনবাদ্য ধাতুনির্মিত অর্থাৎ পিতল, কাঁসার তৈরি। আঘাতের ফলে ধ্বনির উৎপত্তি হয়। ঘনবাদ্য দু’রকমের অনুরক্ত এবং বিরক্ত। যে ঘনবাদ্য সঙ্গীতে ব্যবহার করা হয় তা হলো অনুরক্ত; যেমন- করতাল, মন্দিরা, জলতরঙ্গ ইত্যাদ...